প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ , ১:১৭ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৫ , ১:১৭ অপরাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর কেউ হয়তো বড় কোনো চাকরির স্বপ্ন দেখে, কেউ আবার শহরে ব্যবসা গড়ে তোলে। কিন্তু ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরের তরুণ আব্দুল্লাহ আল মামুন। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে ডিগ্রি নিয়েও তিনি বেছে নেন কৃষকের পরিচয়।
২০১২ সালে পড়াশোনা শেষ করার পর রাজধানীতে একটি আইটি ফার্ম গড়লেও যান্ত্রিকতার শহুরে জীবন তার মন ভরাতে পারেনি। মাটির টানেই ফিরে আসেন গ্রামে। চাষাবাদকে পেশা হিসেবে বেছে নেন তিনি। পাশাপাশি ২০২০ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবেও যোগ দেন।
প্রথমে ধান, কচু আর শাকসবজি দিয়ে শুরু করলেও পরে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেবু, মাল্টা, ভুট্টা, কলা ও শশা চাষে সফলতা পান। বর্তমানে প্রায় ৭ বিঘা জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করছেন তিনি। শুধু লেবু থেকেই মাসে লাখ টাকার বেশি আয় করেন এই আধুনিক কৃষক।
গ্রামের হাটে নিজ হাতে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করেন আব্দুল্লাহ। শিক্ষক কিংবা ইঞ্জিনিয়ার নয়, কৃষক পরিচয়েই সবচেয়ে বেশি গর্ববোধ করেন তিনি। তার ভাষায়, “অন্য কিছু আমাকে টানে না, কৃষিতেই আমি নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পাই।”
কৃষিতে তার এ সাফল্য দেখে এখন এলাকার অনেক তরুণ নতুন করে কৃষিকে ক্যারিয়ার হিসেবে ভাবছেন। স্থানীয় কৃষকরাও তার কাছ থেকে শিখে নতুন ফসলের চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আ. আল মামুন বলেন, “এই অঞ্চলে কৃষিতে সম্ভাবনার উজ্জ্বল উদাহরণ আব্দুল্লাহ আল মামুন। আমরা তার মতো তরুণ উদ্যোক্তাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। তরুণরা কৃষিতে আসলেই দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।”
শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।