হিন্দু মুসলিম সকলেই রাষ্ট্রের সমান অধিকার ভোগ করবে

আগের সংবাদ

সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগ নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দিল ছাত্রদল নেতারা

পরের সংবাদ

পাইকগাছায় পানের দাম কমে থাকায় দুশ্চিন্তায় হাজারো পানচাষী

প্রকাশিত: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ , ৬:২৫ অপরাহ্ণ আপডেট: সেপ্টেম্বর ২৭, ২০২৫ , ৬:২৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার পান চাষিরা রয়েছে মহা বিপদে।  এই অঞ্চলের কয়েক হাজার  মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পান চাষের সাথে জড়িত। পান বিক্রির আয় দিয়েই চলে তাদের  সংসার। তবে গত তিনমাস ধরে পানের বাজারে ধস নামায় চরম সংকটে পড়েছেন এ উপজেলার পানচাষীরা।
মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও রোগবালাইয়ের প্রভাব থাকলেও ফলন হয়েছে ভালো। কিন্তু বাজারে দাম নেই। আগে যে মোটা ও বড় আকৃতির পান পোনপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৩০-৩৫ টাকায় নেমে এসেছে। মাঝারি ও চিকন পানের ক্ষেত্রে দাম পড়েছে মাত্র ৩ থেকে ৫ টাকা—যেখানে আগে তা বিক্রি হতো ১০-২০ টাকায়।
পাইকগাছা  উপজেলায় উৎপাদিত পান দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ হয়। উপজেলার কপিলমুনি, গদাইপুর, পাইকগাছা  সদর,বাঁকা,আগড়ঘাটা বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাটে প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হলেও বর্তমানে তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এছাড়া উপজেলার প্রতিটি বাজারে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ টাকার পান ক্রয় /বিক্রয় হয়।
উপজেলার প্রতাপকাটি গ্রামের পানচাষী খালেক গাজী বলেন, এক বিঘার একটা পানের বরজ আছে আমার।যেটা প্রস্তুত করতে দেড় লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। পানের দাম কম থাকায়  এখন লোকসান গুণতে হচ্ছে। এক কুড়ি পান তুলতে যে জন খরচ হচ্ছে সে দামে ও পান বিক্রি হচ্ছে না।
উপজেলার গদাইপুর  গ্রামের কৃষক সন্তোষ কাপালি  জানান, এন জি ও এর কাছ থেকে ঋণ নিয়েছি সুদে। এখন কম দামে পান বিক্রি করে কিস্তি টাকা দিতে হচ্ছে। এনজিও র ঋণের কিস্তির টাকা দিয়ে কিছুই হাতে থাকছে না।”
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছায় ১২৫  হেক্টর জমিতে পানের বরজ রয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ষাকালে পানের উৎপাদন বাড়লেও দাম কমে যায়, তবে শীত মৌসুমে চড়া দাম থাকে, তখন লোকসান কিছুটা পুষিয়ে যাবে।
পাইকগাছা  উপজেলার উপ-সহকারী তোফায়েল আহমেদ তুহিন  বলেন, গত কয়েক বছরে পাইকগাছা উপজেলায় পান চাষির সংখ্যা কমে গেছে।পান দীর্ঘমেয়াদি ফসল হওয়ায় দাম ওঠানামা করে। বর্ষাকালে বাজারে সরবরাহ বেশি থাকে, তাই দাম পড়ে যায়। তবে পান চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকদের আমরা নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়