যশোরের কেশবপুরে বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে একশত পঁচানব্বই টি ছোট ও বড় গাছ মরে যাওয়াই চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারীরা। সম্প্রতি উপজেলার মরা গাছের ডাল পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ডহুরি গ্রামের অমল ডাক্তার (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
বাতাস ও ঝড় এলেই রাস্তায় ভেঙ্গে পড়ছে গাছের ডালপালা। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের দু’পাশের গাছ মরে শুকিয়ে গেলেও করা হয়নি অপসারণ। এর ফলে জনগুরুত্বপূর্ণ ওইসব সড়ক দিয়ে আতঙ্ক নিয়েই যাতায়াত করছে হাজারও পথচারী ও এলাকাবাসী। সম্প্রতি উপজেলার কলাগাছি-চুকনগর সড়কের পাশের মরা গাছের ডাল পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ডহুরি গ্রামের অমল ডাক্তার (৫০) নামে এক ব্যক্তি আহত হন। উপজেলা বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কেশবপুর-কলাগাছি সড়কের দু’পাশে ২১টি, চুকনগর-সন্ন্যাসগাছা ও ভেরচি-কলাগাছি বাজার সড়কে ৮৯টি, সন্ন্যাসগাছা-ভরতভায়না সড়কে ৭টি, সাগরদাঁড়ি সড়কে ২১টি এবং হাসানপুর-বগা সড়কে ৫৭টি গাছ মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, উপজেলার সুফলাকাটি ইউনিয়নের কলাগাছি-চুকনগর সড়কের দু’পাশে অসংখ্য রেইনট্রি (শিশু) গাছ মরে শুকিয়ে গেছে। হালকা বাতাসে ওই মরা গাছের ডালপালা ভেঙ্গে পড়ছে সড়কের উপর। জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত হাজারও মানুষ চলাফেরা করে থাকে। এছাড়া উপজেলার হাসানপুর-বগা সড়কের দু’পাশ দিয়ে ৩ কিলোমিটারের ভেতর বিভিন্ন প্রজাতির অনেক গাছ দীর্ঘদিন মরে শুকিয়ে গেছে। এ সড়ক দিয়ে হাসানপুর, বগা, কাবিলপুর, টিটাবাজিতপুর, বেলেমাঠ, আওয়ালগাতী, মহাদেবপুর, সুঁড়িঘাটা, সাগরদাঁড়িসহ বিভিন্ন গ্রামের হাজারও লোকজন কেশবপুর উপজেলার পাশাপাশি পাশের এলাকায় যাতায়াত করে থাকে। অপরদিকে, বায়সা-চিংড়া এবং সাগরদাঁড়ি সড়কেও অসংখ্য মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে। দীর্ঘদিনেও সড়কের দু’পাশ থেকে এসব গাছ অপসারণ না করায় ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে এলাকার মানুষ।
সুফলাকাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম মুনজুর রহমান বলেন, তার ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের দু’পাশে অসংখ্য গাছ মরে রাস্তার উপর ডালপালা ভেঙ্গে পড়ছে। সাগরদাঁড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মোস্তাফিজুল ইসলাম মুক্ত বলেন, সড়কের দু’পাশের মরা গাছ অপসারণের জন্য উপজেলা পরিষদের সমন্বয় সভায় উত্থাপন করা হয়েছে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা হাবিবুজ্জামান বলেন, সড়কের ওই মরা গাছগুলো জেলা পরিষদের। জেলা পরিষদ থেকে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছের একটি তালিকা তৈরির কাজ চলছে। খসড়া তালিকা অনুযায়ী উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ রয়েছে ১৯৫টি। এ ব্যাপারে যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) লুৎফর রহমান সরদার সাংবাদিকদের বলেন, সড়কের দু’পাশের মরা ও ঝুঁকিপূর্ণ গাছ অপসারণের বিষয়ে সমন্বয় সভায় আলোচনা করা হয়েছে। ওই সভা থেকে গাছের তালিকা ও মূল্য নির্ধারণের জন্য বন বিভাগকে বলা হয়েছে। তালিকা পেলেই এ সমস্ত গাছ অপসারণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হইবে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।