সাশ্রয়ে শীতের প্রস্তুতি এখন সবার নাগালে

আগের সংবাদ

দেশের শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত, নিহত ৩

পরের সংবাদ

মনিরামপুর হাসপাতালে দুদকের অভিযান

খাবারে নিম্নমানসহ মিলেছে নানা অনিয়ম!

প্রকাশিত: নভেম্বর ৯, ২০২৫ , ৭:৫৭ অপরাহ্ণ আপডেট: নভেম্বর ১০, ২০২৫ , ১:৫০ অপরাহ্ণ
** ১৫৬ গ্রামের পরিবর্তে রোগীকে দেওয়া হয় ৬২ গ্রাম ওজনের মাছ
** নাস্তায় পাউরুটি দেওয়া হয় ১৫২ গ্রামের পরিবর্তে ৫৬ গ্রাম
** অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় করা হয় তিনগুণ
** হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আনিচ নিজেই পোষেন দালাল

যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সংস্থাটির যশোর জেলা দপ্তরের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগীর নেতৃত্বে আজ (রোববার) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলা অভিযানে হাসপাতালের নানা অনিয়মের প্রমাণ ধরা পড়েছে। এসময় নয়ন হোসেন নামে ক্লিনিকের এক দালালকে ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করেছে দুদক।

দুদক জানিয়েছে, তাদের সদর দপ্তরে জমা পড়া অভিযোগের ভিত্তিতে আজ তারা তিন সদস্যর একটি দল মনিরামপুর হাসপাতালে শুরুতে ছদ্মবেশে অভিযান চালায়। অভিযোগের বিষয়গুলোর অনিয়মের প্রমাণ পেয়ে পরে তারা প্রকাশ্যে অভিযান চালান।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া কিলোমিটার প্রতি ১০-১৫ টাকা। আমরা অভিযোগ পেয়েছি মনিরামপুর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক এখলাস হোসেন রোগীদের জিম্মি করে তিনগুন ভাড়া আদায় করে। মনিরামপুরে থেকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী নেওয়ার জন্য আমরা ছদ্মবেশে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সাথে মোবাইলে কথা বলি। চালক আমাদের কাছে দুই হাজার টাকা ভাড়া দাবি করে। দূরত্ব হিসেব করলে মনিরামপুর থেকে খুলনা পর্যন্ত সরকারি ভাড়া আসে ৬০০-৭০০ টাকা। সেখানে চালক তিনগুণ ভাড়া আদায় করে।

চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, ভর্তি রোগীর খাবারের মান যাছাই করতে গিয়ে আমরা দেখেছি, সকালের নাস্তায় রোগীকে ১৫২ গ্রাম ওজনের পাউরুটি দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সরবরাহ করা রুটির ওজন মিলেছে মাত্র ৫৬ গ্রাম। রোগীর খাবারে ১১৮ গ্রাম ওজনের মাছের টুকরা দেওয়ার কথা থাকলেও সরবরাহ করা মাছের প্রতি টুকরার ওজন মিলেছে ৬০ থেকে ৮০ গ্রাম। এছাড়া মানহীন তেল ও লবন ব্যবহার করা হচ্ছে রোগীর জন্য রান্না করা তরকারিতে। রোগীদের যে ডাল খাওয়ানো হয় তার মানও খুবই নিম্ন।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, ভর্তি বিভাগে অভিযানে দেখা গেছে হাসপাতালে সরকারি ওষুধ ও স্যালাইন মজুদ থাকলেও রোগীদের সেই ওষুধ বা স্যালাইন বাইরে থেকে কেনানো হচ্ছে। রোগীর বাথরুম বা টয়লেটের অবস্থাও নাজুক দেখা গেছে।

দুদকের এই উপপরিচালক বলেন, অভিযানে দেখা গেছে হাসপাতালের ল্যাব সহকারী আনিছুজ্জামান বিভিন্ন ক্লিনিকের দালালের মাধ্যমে রোগীদের পরীক্ষা করানোর জন্য বাইরের ক্লিনিকে পাঠিয়ে থাকে। এসময় আমরা নয়ন হোসেন নামে এক দালালকে ধরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সোপর্দ করেছি। এছাড়া জরুরি বিভাগে অভিযানের সময় দেখা গেছে আউট সোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ওয়ার্ডবয়রা কোন প্রকার প্রশিক্ষণ ছাড়াই রোগীর সেলাই বা ব্যান্ডেজের কাজ করছে।
তবে দুদকের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ল্যাব সহকারী আনিছুজ্জামান।

দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক চিরঞ্জীব নিয়োগী বলেন, অভিযানের সময় হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক অনুপ বসু আমাদের সাথে ছিলেন। আমরা অনিয়মের বিষয়গুলো হাসপাতাল প্রধানকে জানিয়েছি। অনিয়ম পাওয়া বিষয়গুলো আমাদের সদর দপ্তরকে লিখিতভাবে জানাব। এছাড়া সিভিল সার্জনকে বিষয়গুলো জানানো হবে।

দুদকের অভিযোগের বিষয়ে মনিরামপুর হাসপাতালে খাবার পরিবেশনকারী ঠিকাদার ইসমাইল হোসেন বলেন, ২০১২ সালের মূল্যতালিকায় আজও আমাদের খাদ্য সরবরাহ করতে হচ্ছে। নতুন করে আর টেন্ডার না হওয়ায় লোকসান করে খাদ্য সরবরাহ দিতে হচ্ছে।

মনিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) অনুপ বসু বলেন, মাঝেমধ্যে আমরা ঠিকাদারকে ডেকে রোগীর খাবারের মান সম্পর্কে সতর্ক করি। দুই-চারদিন ঠিক থাকার পর আবার যাইতাই হয়ে যাচ্ছে। উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ থাকায় ঠিকাদার পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে না।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাইয়াজ আহমেদ ফয়সাল বলেন, দুদকের অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়