প্রকাশিত: আগস্ট ৩০, ২০২৫ , ৪:৩০ অপরাহ্ণ আপডেট: আগস্ট ৩০, ২০২৫ , ৪:৩০ অপরাহ্ণ
ছবি: সংগৃহীত
বিছানায় চিৎ হয়ে উঠানের দিকে মাথা দিয়ে শুয়ে আছে মেহজাবিন,তার মা মাথার উপর মাটির টিলা ঝুলিয়ে তার তলে ছিদ্র করে পাটখড়ি দিয়ে পানি দিচ্ছে মেহজাবিনের মাথায় ও কপালে, গত চারদিন যাবৎ সে জ্বরে আক্রান্ত।ঔষধ খেলেও কখনো একটু জ্বর কমছে আবার বাড়ছে।
পাইকগাছায় প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে জ্বরে হানা দিয়েছে।গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা চলছে। প্রচন্ড জ্বরের সাথে অনেকের-বমি ও শরীর ব্যাথায় কাবু করে ফেলছে। এদের প্রায় সবারই মাথাব্যথা, সর্দিকাশি, বমি হওয়া, গলা ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও পেটে ব্যথার মতো উপসর্গ রয়েছে। কিছু খেতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু আতঙ্কে অনেকের রক্ত পরীক্ষা করানো হয়েছে। কিন্তু টেস্ট রিপোর্ট অনেকেরই নেগেটিভ দেখালেও শরীর ব্যাথা-মাথাব্যাথা ও বমি হওয়ায় লক্ষণ অনেকটা চিকুনগুনিয়া ও ডেঙ্গু-করোনার মতই মনে হয়। গত কয়েক দিন পাইকগাছা হাসপাতাল সহ আশপাশের বিভিন্ন ক্লিনিকে ঘুরে দেখা গেছে, জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি। হাসপাতালের বহির্বিভাগে রয়েছে রোগীর স্বজনদের দীর্ঘ লাইন। ক্লান্তিতে অনেককে মেঝেতে বসে রয়েছেন। চিকিৎসা নিতে আসা বেশির ভাগেরই জ্বর, মাথাব্যথা, পেটে ব্যথা, বমি, ডায়রিয়া। এ ছাড়া পাইকগাছা ও কপিলমুনি ক্লিনিকের চিকিৎসকদের চেম্বার ও রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর ভিড় চোখে পড়েছে ব্যাপক। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্বর হলেই ডেঙ্গু আতঙ্কে পরীক্ষা করাতে আসছেন তারা। ডেঙ্গু তুলনামূলক বেশি প্রাণঘাতী ভেবে তারা কোন প্রকার ঝুঁকি নিতে নারাজ। এদিকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, তিন থেকে সাত দিন জ্বর-সর্দি-কাশির তীব্রতা থাকছে। পরীক্ষায় বেশির ভাগই ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসে আক্রান্ত। একসঙ্গে পরিবারের একাধিক সদস্যও জ্বর-সর্দি-কাশিতে ভুগছে। এতে আতঙ্কিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষা করার কথা বলছেন তারা।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে জ্বরে আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা বেড়ে গেছে, হাসপাতালে তাদের যায়গা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ জ্বরে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বৃদ্ধ, জটিল রোগী এবং শিশুরা । এ ছাড়া ডেঙ্গু কিংবা চিকুনগুনিয়া আক্রান্ত হয়েও অনেকের জ্বর আসছে। চিকিৎসকরা এটিকে ভাইরাস জ্বর, ভাইরাল ফিভার বা সিজনাল ফ্লু হিসেবে দেখছেন। ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো বলেন, যেহেতু এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ সেহেতু এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন,রাতে মশারী টানিয়ে ঘুমাতে হবে এবং সবসময় বাড়ীঘর ও তার আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পাশাপাশি জ্বর হলেই যেন চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করেন। একইসাথে বেশী বেশী তরল,জুস,ওরস্যালাইন খাবেন। এক্ষেত্রে এন্টিবায়োটিক কম খাবেন । তবে প্যরাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করতে পারেন। পাশাপাশি এ ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান ।
শেয়ার করুন
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।