বাংলাদেশের কৃষি এখন শুধুমাত্র সারের সংকটে নয়, ভেজাল কীটনাশক ও কৃষি পণ্যে মারাত্মক হুমকির মুখে। পাবনার ঈশ্বরদী দাশুড়িয়ায় অবস্থিত “এক্সপার্ট এগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট লিমিটেড” নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বারবার ভেজাল কৃষিপণ্য বাজারজাত করার অভিযোগ উঠেছে। পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট প্রকাশ ও একাধিকবার জরিমানা করা হলেও প্রতিষ্ঠানটি এখনো ভেজাল পণ্য উৎপাদন এবং বাজারজাত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানিটির মালিক সুজন মাহমুদ হেলাল রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এসব অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। তার মামা গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ঈশ্বরদী থেকে সংসদ সদস্য ছিলেন বলেও জানা গেছে। প্রশাসন থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না, যেন চোখে পড়লেও দেখছেন না কেউ।
এদিকে সারের বাজারেও চলছে লাগামহীন মুনাফা। মোল্লাহাটের বিভিন্ন বাজারে কৃষকদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে দ্বিগুণ মূল্যে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডিএপি: সরকার নির্ধারিত ২১ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা
ইউরিয়া: নির্ধারিত ২৭ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ২৮–৩০ টাকা
টিএসপি: নির্ধারিত ২৭ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ৩৫–৪০ টাকা
এমওপি: নির্ধারিত ২০ টাকা, বিক্রি হচ্ছে ২৫–৩০ টাকা
বিষয়টি কৃষি অফিসকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। উপসহকারী অজয় মল্লিক জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা চলছে এবং ভেজাল পণ্যের বিষয়ে উর্ধ্বতনদের সঙ্গে কথা বলবেন।
এই অবস্থায় যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে দেশের কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ খাদ্য সংকটে পতিত হতে পারে। সারের বাজার ও ভেজাল কৃষিপণ্যের বিরুদ্ধে তড়িৎ গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।