অর্থমন্ত্রীর কি কিছুই করার নেই

আগের সংবাদ

ফ্রান্সে পার্লামেন্ট ভেঙে দিলেন ম্যাক্রোঁ, আগাম নির্বাচনের ঘোষণা

পরের সংবাদ

কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিশ্রুতি আছে পদক্ষেপ নেই

প্রকাশিত: জুন ১০, ২০২৪ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ আপডেট: জুন ১০, ২০২৪ , ১০:০১ পূর্বাহ্ণ

নানা সংকটে থাকা দেশের অর্থনীতির অন্যতম সমস্যা বেকারত্ব। এই বেকারত্ব কমাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো জরুরি। কিন্তু প্রস্তাবিত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে কর্মসংস্থান বাড়ানোর দিকনির্দেশনা নেই। এক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় কিছু বক্তব্য থাকলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেই, যা যুবকদের হতাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে কয়েকটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

এগুলো হলো-বিনিয়োগ বাড়াতে পদক্ষেপ, যুবকদের প্রশিক্ষণের উদ্যোগ, কর্মসংস্থানসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর বরাদ্দ বাড়ানো, যুবকদের পুঁজির সহজলভ্যতা এবং কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করা। কিন্তু বাজেটে এসবের সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাজেট-উত্তর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কর্মসংস্থানের জন্য ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ২৩ দশমিক ৫ শতাংশ। এটি অত্যন্ত কম। এছাড়া পরিকল্পিত কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য উদ্যোগ নিতে হয়। স্বাভাবিক হিসাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়বে। কিন্তু সিপিডির হিসাবে দেখা যায়, আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না। ফলে কর্মসংস্থান বাড়াতে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোসহ আরও কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থনীতিবিদের মতে, নানা সংকটে দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নড়বড়ে। বর্তমানে অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে ক্ষত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণে নিুগতি, ব্যয় ব্যবস্থাপনায় সংকট, ব্যাংকিং খাতের দুরবস্থা, রপ্তানিতে নিু প্রবৃদ্ধি, আমদানি নেতিবাচক, বিনিয়োগ স্থবির এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অন্যতম। এ অবস্থায় মানুষের কর্মসংস্থান বাড়িয়ে ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। কিন্তু কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে বাজেটে বরাদ্দ পর্যাপ্ত নেই। এর মধ্যে শিল্প এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় অন্যতম। এসব মন্ত্রণালয়ে আরও বেশি বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি ছিল। এসব মন্ত্রণালয়ে অনেক চলমান প্রকল্প রয়েছে। এসব মন্ত্রণালয়ের আওতায় অনেক চলমান প্রকল্প রয়েছে। প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেই।

কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়, ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে সরকারের একটি অন্যতম অঙ্গীকার ছিল ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সরকার এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে রেমিট্যান্স বা প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দক্ষ কর্মী পাঠাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এছাড়াও বিদেশফেরত প্রবাসীদের ঋণ দিতে ৫শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের দিক থেকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ মোট বাজেটের মাত্র শূন্য দশমিক ০৬ শতাংশ এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ে শূন্য দশমিক ৩১ শতাংশ। এছাড়াও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ কিছুটা বাড়লেও শিল্প মন্ত্রণালয়ে কমেছে।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়