বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। সুনাম ক্ষুণ্নকারী বা দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত কারও প্রতি ছাড় দেওয়া হবে না বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। যেকোনো পর্যায়ের নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবর্তন এলে বিএনপি আরও দৃঢ় হয়। চাঁদাবাজি, দলবাজি ও ভাঙচুরের মতো অভিযোগে ইতোমধ্যেই প্রায় সাত হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও দুর্নীতির অভিযোগও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখছে দল।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, “দেশের কোথায় কী ঘটছে, খবর পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর দলের নামে দুর্বৃত্ত চক্র গড়ে তোলার অভিযোগে হাজারো নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দুর্নীতি ও অসদাচরণের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছেন। তিনি সম্প্রতি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন, দুর্নীতির দায়ে অনেক নেতাকে বহিষ্কার বা পদচ্যুত করা হয়েছে।
বিএনপি নেতারা জানান, আসন্ন নির্বাচনে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থী বাছাইয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে দল। এজন্য নতুন সদস্য গ্রহণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। বাজার-বন্দরে মাইকিংয়ের মাধ্যমে চাঁদাবাজি বন্ধে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এবং দলের কেউ জড়িত থাকলে প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ৩২০০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের বহু নেতা-কর্মী বহিষ্কার হয়েছেন, আবার কিছু ক্ষেত্রে কারণ দর্শানো নোটিশ ও বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারও করা হয়েছে।
বিএনপি শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে জিরো টলারেন্স নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।