রংপুরের কাউনিয়ায় দাদন ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে। এ মামলায় আসামি ফরিদ মিয়াকে (৩৫) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অপরদিকে একই মামলার আরেক আসামি ফরিদের স্ত্রী মিষ্টি বেগম মিনিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে রংপুরের সিনিয়র দায়রা জজ ফজলে খোদা মো. নাজির এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ফরিদ মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে ছয় মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রায় ঘোষণার পর আসামিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে আসামি ফরিদ মিয়ার আর্থিক লেনদেন ছিল। চার শতাংশ জমি কবলা দলিল করার পরও সিরাজুলের কাছে ফরিদের ৭০ হাজার টাকা পাওনা ছিল। সেই টাকার বিষয়ে প্রায়ই সিরাজুল ফরিদের বাড়িতে যেতেন। ২০১৭ সালের ১৭ ডিসেম্বর রাতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফরিদ মিয়া ফোনে ডেকে নিয়ে সিরাজুল ইসলামকে হত্যা করেন। পরদিন বাড়ির রান্নাঘরের মেঝেতে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ পুঁতে রাখেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মবিনা বেগম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাড়ে সাত বছর বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে আদালত এ রায় দেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফতাব উদ্দিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী শাহেদ কামাল ইবনে খতিব।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।