গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় বরিশাল সার্কিট হাউসের সম্মেলনকক্ষে বরিশাল বিভাগীয় পর্যায়ে কর্মরত সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত নাগরিক সেবা ও সেবার মানোন্নয়নে করণীয় শীর্ষক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘সরকার পাল্টায়, সরকার চলে যায়। কিন্তু আমরা প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয়কে এতটা জায়গা দিয়েছি যে, এখন সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’অন্তর্বর্তী সরকারের প্রসঙ্গ টেনে কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এখন আমাদের সামনে বড় সুযোগ। অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক পক্ষপাতবিহীন। রাজনৈতিক চাপ না থাকলে আমাদের কাজের পরিবেশ ভালো থাকে। আমাদের উচিত এই সুযোগে পরিবর্তন আনা।’
রাজনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে ড. মোমেন বলেন, ‘আমরা প্রায়ই বলি, প্রশাসনের রাজনৈতিকীকরণ হয়েছে। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতায় দেখি উল্টো, আমরাই অনেক সময় রাজনীতিবিদদের কাছে যাই। যদি আমরা নিরপেক্ষ থাকতে পারি, পরিবর্তন আনা সম্ভব।’কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, ‘কারো পক্ষ নেওয়া আমাদের জন্য ভালো নয়। আমাদের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ সেবা দেওয়া। আমরা সেই সেবা দিয়েই যাব।’আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. মোমেন বলেন, ‘সবার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ নির্বাচন। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার। এই কাজ সফল করতে আমাদের সক্রিয় থাকতে হবে।’দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের বেশি কাজ হওয়া উচিত ভবিষ্যতে যেন দুর্নীতি না হয়। আগের দুর্নীতি নিয়ে শতভাগ সময় ব্যয় না করে বর্তমান দুর্নীতি প্রতিরোধে মনোযোগী হওয়া জরুরি। এই ভুল থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’
অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আহসান হাবিবের সভাপতিত্বে মতবিনিময়সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক মোজাহার আলী সরদার, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (প্রতিরোধ) মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন।
এর আগে নগরীর সিঅ্যান্ডবি রোডে প্রায় ২৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য ছয়তলা বরিশাল দুদক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন দুদক চেয়ারম্যান।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।