চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি

আগের সংবাদ

জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি

পরের সংবাদ

বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন যশোরের খান মো. শফিক রতন

প্রকাশিত: জুন ১২, ২০২৫ , ৯:৫৮ অপরাহ্ণ আপডেট: জুন ১২, ২০২৫ , ১০:২৮ অপরাহ্ণ

খান মো. শফিক রতন এক সময় যশোর জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক, টিম ম্যানেজার, কোচ, প্রধান নির্বাচক(চিফ সিলেক্টর), জেলা ক্রীড়া সংস্থার ক্রিকেট পরিষদের সদস্য ও সহসভাপতি, জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারি কলকাতায়। এরপর চলে আসেন যশোর। পিতার নাম খান মোঃ ইউনুস। তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। শিক্ষা এইচএসসি। দীর্ঘদিন তিনি যশোর পৌরসভায় চাকরি করেছেন। এক পুত্র এক কন্যার পিতা রতন।

খান মো. শফিক রতনের বর্তমান নিবাস যশোর শহরের নলডাঙ্গা রোডে। তাঁর পুরো পরিবার ক্রীড়া অনুরাগী। তার চাচা আব্দুল্লা খান হামদু এক সময়ে যশোর জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ছিলেন। ছোট ভাই খান মো: রফিক ছকু জেলা ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ছিলেন। চাচাতো ভাই আসাদুল্লাহ খান বিপ্লব যশোর জেলা ক্রিকেট দল ও খুলনা বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় ছিলেন। ভাইপো হাসানুজ্জামান ঝড়ু বাংলাদেশ বিমানের হয়ে ঢাকায় প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেট খেলা করেছে। বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পেয়েছিল। খান মো. শফিক রতনের একমাত্র পুত্র রাশেদ পারভেজ ফুল, ১৯৯২ সালে জাতীয় যুব ক্রিকেটে যশোর চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে, সে ওই দলের একজন অপরিহার্য খেলোয়াড় ছিল। ফুল জেলা ক্রিকেট দলে খেলোয়াড় হিসাবে অনেক বার প্রতিনিধিত্ব করেছে। বি.কে.এস.পি থেকে “এ” গ্রেড প্রাপ্ত ক্রিকেট কোচ, রাশেদ পারভেজ ফুল একজন কোয়ালিফায়েড ক্রিকেট আম্পায়ার। খেলাধূলায় খান মো. শফিক রতনের পরিবারের সদস্যদের অবস্থান প্রমান করে দেয় পারিবারিক ঐতিহ্য।

খান মো. শফিক রতন। ছবি: সংগৃহীত

যশোর শহরে একসময় নাম করা স্কুল, সম্মিলনী ইনস্টিটিউসনে খান মো. শফিক রতন লেখাপড়াকালীন সময় খেলাধূলায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। কলেজে পড়াকালীন সময়ও ফুটবল, হকি, ক্রিকেট খেলায় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। দেশ স্বাধীনের আগে জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত ঘরোয়া লীগ “ইষ্টার্ণ ক্লাব” এর হয়ে ফুটবল, হকি, ক্রিকেট খেলায় প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এবং নিয়মিত অংশ গ্রহণ করেছেন। ১৯৬৫-৬৬ সালের দিকে ইন্টারস্কুল ফুটবল খেলায় তিনি স্কুল পর্যায়ে একজন সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। ওই সময় যশোর জেলা ফুটবল দল গঠন করার জন্য খেলোয়াড় বাছাইতে ডাক পেয়েছিলেন।

খেলোয়াড় হিসাবে স্কুল পর্যায়ে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি। সম্মিলনী স্কুল যশোর আন্তঃ স্কুলে অংশগ্রহণ । কলেজ পর্যায়ে যশোর সরকারী এম এম কলেজ দলে। ফুটবলে আন্তঃ কলেজ খেলায় যশোর বোর্ড ফাইনাল ১৯৬৯। তৎকালীন ৪ বোর্ডের সম্মিলিত ফুটবল দলের রাজশাহীতে বাছাই ক্যাম্পে অংশগ্রহণ।

যশোর লীগ পর্যায়ে “ইষ্টার্ণ ক্লাব” ১৯৬৬-১৯৬৭, “ডায়মণ্ড ক্লাব” ১৯৬৮-১৯৬৯। হকিতে ১৯৬৭-১৯৬৮, ১৯৬৯ “ইষ্টার্ণ ক্লাব”। জেলা হকি দল ১৯৬৮ এবং ১৯৬৯। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক পর্যায়ে (ঢাকায়) হকি খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ। ১৯৭০ এ “ঢাকা মোহামেডানে” ঢাকা লীগে ২টা ম্যাচে অংশগ্রহণ।

ক্রিকেটে হাতে খড়ি পিতৃব্য আব্দুল্লাহ খান হামদু’র নিকট। কলেজ পর্যায়ে সরকারী এম এম কলেজ এর পক্ষে আন্তঃ কলেজ প্রতিযোগিতায় আঞ্চলিক চ্যাম্পিয়ন ১৯৬৮। এই দলের অধিনায়কের দায়িত্ব এবং যশোর বোর্ড চ্যাম্পিয়ন।

যশোর লীগে “ইষ্টার্ণ ক্লাব” ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত। “ইয়ং ষ্টার ক্লাব” ১৯৬৯। ক্যাপ্টেন, লীগ চ্যাম্পিয়ন, ১৯৭০। “প্রগতি” ১৯৭৫, ক্যাপ্টেন, চ্যাম্পিয়ন। “ছাত্র সংঘ” ১৯৭৬-১৯৭৮ এবং চ্যাম্পিয়ন । “ব্রাদার্স ইউনিয়ন” ১৯৭৯। “ছাত্র সংঘ” ১৯৮০। “ইলেভেন ষ্টার” ১৯৮১-১৯৮২। “চাঁচড়া রেলগেট যুব সংঘ”, “আর এন রোড, কে সি” ১৯৯১-১৯৯২, রানার্স আপ দলে। খুলনা লীগে “ফারুক মেমোরিয়াল”, “মুসলিম স্পোর্টিং ক্লাব”, “ভৈরব একাদশ”, “ভেনাস”, ১৯৭৬, রানার্স আপ। ১৯৭৯ পর্যন্ত এই ক্লাবে খেলেন।

যশোর জেলা দলে, ১৯৬৭। খুলনা সার্কিট হাউস মাঠে যশোর বনাম কুষ্টিয়ার খেলায় এক পর্যায়ে ১২ রানে ৭ উইকেটের পতন হয় যশোর জেলা দলের। এ অবস্থায় ব্যাটিং এ এসে উইকেট কিপার আলিমুজ্জামান দুলু’র সঙ্গে জুটি করে অপরাজিত ৪৪ রান করেন। ১৯৬৭- ১৯৮০ পর্যন্ত যশোর জেলা ক্রিকেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেন।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়