চট্টগ্রামে ঝুলে আছে ৫০ হাজার আবেদন

আগের সংবাদ

যশোরে গণহত্যা দিবস স্মরণে আলোচনা সভা

পরের সংবাদ

সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারে প্রতারিত হচ্ছেন পর্যটকরা

প্রকাশিত: এপ্রিল ৬, ২০২৫ , ৯:২০ অপরাহ্ণ আপডেট: এপ্রিল ৬, ২০২৫ , ৯:২০ অপরাহ্ণ

নৈসর্গিক সৌন্দর্যে ভরা পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। সাগরের নীল জলরাশি আর ঢেউয়ের গর্জনেরে সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় মনোমুগ্ধকর এক পরিবেশ। তবে সৈকতের নিরাপত্তা দেবার দায়িত্ব যাদের প্রশাসনের সেই বিভাগের অভ্যন্তরে এখন ভূতের আস্তানা। বলা হয়ে থাকে শর্ষে দিয়ে ভূত খেদানো যায় কিন্তু সেই শর্ষেই যখন ভুত ভর করে তখন আর কোন উপায় থকে না।

যেমনটি বলছিলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে হানিমুন করতে আসা নব দম্পতি রাহুল-পূজা। সপ্তাহ দুয়েক আগে পরিণয় সূত্রে আবদ্ধ হয়ে তারা কক্সবাজারে ঘুরতে এসেছেন। এসেছেই পড়েছেন বিড়াম্বনায়। হকারদের যন্ত্রনার সঙ্গে যোগ হয়েছে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় ইচ্ছেমত বিল আদায়। সঙ্গে নতুন বউ বলে দামাদামি করতে ভয় পাচ্ছেন। রাহুল যখন একথা বলছিলেন পাশে দাঁড়ানো পূজা তখন লজ্জায় রাঙা হয়ে ওঠেন। মৃদু প্রতিবাদ করলেও তা রাহুলের কান অবধি পৌছেনি ঠিক যেমন রাহুলের প্রতিবাদ প্রশাসনের কান অবধি যাচ্ছে না।এদিকে আনন্দ করতে যেয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে পর্যটকরা পদে পদে প্রতারিত হচ্ছেন। বার্মিস মার্কেটসহ সব মার্কেটে নকল ভেজাল জিনিসে সয়লাব।

নোয়াখালী, হাতিয়া, চট্টগ্রামসহ বরিশালের দ্রব্যকে বার্মিজ দ্রব্য বলে চালিয়ে দেয়া এখানে অতি সাধারণ ব্যাপার। তবে দাম রাখার বিষয়ে কোন ছাড় নেই। সকালে ৫শ’টাকার দ্রব্য বিকেল ও রাতে ১ হাজার থেকে ১৫শ টাকায় পর্যটকদের কিনতে হচ্ছে। এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা এভাবে প্রতিদিন পর্যটকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ বুঝে পর্যটকদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করলেও প্রশাসনের কোন মাথাব্যথা নেই। প্রতিদিন প্রতারণার শিকার হচ্ছেন প্রায় ১০ হাজার পর্যটক।

সরজমিনে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন জিনিসপত্রে মূল্য নিয়ে প্রতারণা। নকল ভেজাল খাদ্য সামগ্রী বিদেশি বলে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই সব ঘটনাঘটলেও এর বিরুদ্ধে জোরালো কোন ব্যবস্থা নেবার সংবাদ মেলেনি। সকালে বা দিনের বেলা যে পোশাক ৭শ টাকা চাওয়া হয়েছে, রাত ৯টার পর সেই পোশাক ১৩শ টাকা দর হাকা হচ্ছে। প্রতারণার বড় ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে কলাতলী ও সুগন্ধ্যা বিচের পাশের মার্কেট সমূহ। অন্যদিকে কক্সবাজার জেলা শহরে অধিকাংশ মার্কেটের নাম বার্মিজ মার্কেটনামকরণ করা হয়েছে। অধিকাংশ বার্মিজ মার্কেটে নকল ভেজাল জিনিষে সয়লাব। আচার থেকে চকলেট কিনতে গেলে বার্মিজ বলে নকল জিনিসপত্র ধরিয়ে দেওয়া হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, সারাদেশ থেকে হাজার হাজার পর্যটক প্রতি বছর শীত মৌসুমসহ বিভিন্ন সময়ে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে যান। তারা বেড়ানো শেষে ফেরার পথে কেনাকাটা করতে গেলে বিপাকে পড়েন।সেখানে কোন পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে নেই। দোকানদার তার ইচ্ছেমত দাম হাকান। এখানে ২শ টাকার পণ্য প্রতারণা করে তা ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। কোন পণ্যের গায়ে দাম বা উৎপাদন তারিখ এমনকি মেয়াদের তথ্য দেওয়া নেই। তাই প্রকৃত মূল্য ক্রেতার কাছে অজানা থেকে যায়। কিছু কিছু ব্যবসায়ী সকালে দোকান খোলার পর দাম কিছুটা কম চাইলেও রাত যত গভীর হবার সাথে সাথে তাদের পণ্যের দাম বাড়িয়ে থাকেন। একাধিক বার্মিজ মার্কেটে এমন অবস্থা স্পষ্ট হলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই।

কলাতলী সুগন্ধা বিচের কাছে বার্মিজ মার্কেটে মানিকগঞ্জ থেকে আসা আয়নাল ফকির নামের এক পর্যটক জানান, একটি পোশাকের দামজিজ্ঞাস করলে দোকানদার এক দাম ৭শ টাকা দাবি করেন। রাতে একই পোশাক আবার দাম করতে গেলে ১৩শ টাকা বিক্রি করবে বলে জানায়। উল্টো দোকানিকে প্রশ্ন এ পোশাক সকালে ৭শ টাকা চাইলেন, আর এখন (রাতে) তা ১৩শ টাকা কিভাবে হলো। তখন দোকানি চুপ। সুগন্ধা বিচ পয়েন্টের কাছে ড্রাগন মার্কেটে বার্মিজ স্টোর অ্যান্ড আচার বিতানের দোকানে চকলেট কিনতে গেলে সেখানে বার্মিজ চকলেট বলে বরিশালের তৈরি নকল চকলেট বিক্রি করতে দেখা যায়। যার প্যাকেট দেখে বোঝার উপায় নেই। কথা বলার এক পর্যায়ে নকল চকলেট সরিয়ে রেখে বার্মিজ চকলেটের প্যাকেট দেন দোকানি। আর জিনিসপত্র ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের কোন তালিকা নেই। সবই মুখে বলে আর পর্যটকরা ঝামেলা না করে পণ্য পছন্দ হলে তা ক্রয় করেন।

শাজাহান বিশ্বাস নামে অপর পর্যটক বলেন, এখানে কোন টি আসল বা নকল তা বুঝার উপায় নেই। ব্যবসায়ী তার ইচ্ছে মত দাম আদায় করে থাকেন। চায়না চকলেটকে ব্রাজিল বলে পর্যটকদের কাছে বিক্রি করছে। শত শত দ্রব্যের আচার বিক্রি করা, কিন্তু বুঝার উপায় নেই কোনটা আসল।এ ভাবেই কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত এলাকায় মার্কেট গুলোতে পর্যটকদের গলা কাটা হচ্ছে।

মি. বিশ্বাস দু:খ প্রকাশ করে বলেন, অনিয়মের মাধ্যমে ব্যবসা করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। কিন্তু প্রশাসন কানে তুলো গুজে বসে আছে। প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করেই এই ভাবেই পর্যটকদের পকেট কাটা হচ্ছে যোগ করেন মি. বিশ্বাস।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, কক্সবাজার পর্যটন স্পটগুলোতে বেশির ভাগ মার্কেট বার্মিজ মার্কেট হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে। সেখানে দোকানগুলোতে বার্মিজ পণ্য ছাড়া বাংলাদেশের বা ইউরোপসহ অন্যান্য উন্নত দেশের ভালো কোন পণ্য বা পোশাক নেই।

লাবনী সি বিচ সরজমিনে জানা গেছে, স্টুরিস্ট পুলিশের স্পিট বোর্ড নিয়ে ব্যবসা করছে স্থানীয় হকাররা। অথচ বিচে প্রবেশ করার গেইটে সাইনবোর্ডদেয়া আছে। স্পিট বোর্ট পর্যটকদের ব্যবহারের জন্য ভাড়ার প্রয়োজন নেই। অথচ এক শ্রেণীর অসাধু হকাররা অসাধু পুলিশদের সঙ্গে সম্পর্ক করে পর্যটকদের কাছথেকে ২ শ’থেকে ৫ শ’ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হয়।আবার কোন পর্যটক স্পিট বোর্ডেও সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুললেও আদায় করা হয় ভাড়া। এ ভাবে চলছে পর্যটক কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম।

এ বিষয়ে এক স্টুরিস্ট পুলিশ বলেন, আমি নতুন এসেছি এ সম্পর্কে আমি কিছুই বলতে পারবো না। আপনি আমাদের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলুন। যেসব কারনে পর্যটকরা প্রতিনিয়ত হয় রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছন তা সাদা চোখে দেখা গেলেও পুলিশ সেটি দেখতে পায় না।এমন অভিযোগের জবাবে ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ বলেন, দেশে ওপেন মার্কেটিং। দর কষাকষি করে কেনা ভালো। আর নকল ভেজাল আচার, চকলেটসহ অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান রয়েছে দাবি করেন পুলিশের এই কর্মকর্ত। প্রায়ই প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে বলে যোগ করেন তিনি।

মন্তব্য করুন

খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।

জনপ্রিয়