শারদীয় দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি শুরুর আগেই পর্যটকদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে কক্সবাজার। ২৬ সেপ্টেম্বর (শুক্রবার) সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই শহরের কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা সৈকতে ভিড় জমে যায় হাজারো ভ্রমণপিপাসুর।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মহানবমী উপলক্ষে ১ অক্টোবর (বুধবার) থেকে ছুটি শুরু হবে। পরদিন ২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর ছুটি, এরপর ৩ ও ৪ অক্টোবর (শুক্র ও শনিবার) পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে সরকারি কর্মচারীরা টানা চার দিন ছুটিতে থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টানা ছুটির আগেই কক্সবাজারের প্রায় সব হোটেলে অগ্রিম বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। এ সময়ে যাতে পর্যটকরা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে প্রশাসন থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হোটেল-মোটেল গেস্ট হাউস মালিক সমিতির নেতা আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তায় জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়নে আমরা সতর্ক রয়েছি।’
এদিকে সাগরে সংকেত জারি থাকায় সমুদ্র বেশ উত্তাল। সী-সেইফ লাইফ গার্ডের মাঠ কর্মকর্তা ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সমুদ্র উত্তাল এবং গুপ্তখালও তৈরি হয়েছে। তাই ঝুঁকি এড়াতে লাল পতাকা চিহ্নিত স্থানে সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে লাইফ গার্ডদের পরামর্শ নিয়ে সমুদ্রে নামতে হবে। অতিউৎসাহী হয়ে নামলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে আসা ব্যাংক কর্মকর্তা সায়েমুল হক বলেন, কক্সবাজার দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় পর্যটন স্পট। সুযোগ পেলেই পরিবার নিয়ে এখানে চলে আসি। আজ সকালেই পৌঁছে সৈকতে ঘুরে দারুণ সময় কাটাচ্ছি।
ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি আপেল মাহমুদ জানান, চলতি মৌসুমে কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভ্রমণকারীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন, সে বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়তি যাত্রী চাপ সামলাতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ‘পূজা স্পেশাল’ নামে চার জোড়া ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলবে তিন জোড়া এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি জোড়া ট্রেন।