Print

Rupantor Protidin

চট্টগ্রাম বন্দরে মাশুল বাড়ছে ৪০%, ব্যবসায়ীদের শঙ্কা ভোক্তা ও রফতানিতে চাপ বাড়বে

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৮, ২০২৫ , ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৮, ২০২৫, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ

Sheikh Kiron

চট্টগ্রাম বন্দরকেন্দ্রিক আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে বড় ধরনের মাশুল বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি কনটেইনার ডিপোগুলোর মাশুল ৪০ শতাংশ বাড়লেই বছরে অতিরিক্ত এক হাজার আটশ কোটি টাকা আয় হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে ভোক্তাদের ওপর বাড়তি ব্যয় চাপবে এবং রফতানি খাতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতাও হ্রাস পেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টরা।

গত ২০২৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দর বিভিন্ন খাত থেকে আয় করেছে ৫ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে রিভার ডিউজ, পাইলটিং, কনটেইনার ও পণ্য ওঠা-নামা, ভাড়া ইত্যাদি প্রধান উৎস। বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, মোট আয়ের ৭০ শতাংশ এসেছে দেশের অভ্যন্তরীণ খাত থেকে এবং বাকি ৩০ শতাংশ এসেছে আমদানি-রফতানিকারকদের কাছ থেকে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে শুধুমাত্র জাহাজ ও পণ্য পরিবহন সেবা থেকে আদায় করা হয়েছে ৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা। নতুন গেজেট কার্যকর হলে এ খাত থেকে আয় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, যা দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি হবে। ইতোমধ্যে বেসরকারি কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশন এক সার্কুলারে জানিয়েছে, তাদের সেবা খাতে ৩০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মাশুল বাড়ানো হবে, যা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

অন্যদিকে, শিপিং অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবহারকারীরা সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। চেম্বার নেতারা বলছেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়।

এ বিষয়ে নৌ পরিবহন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, সবার সঙ্গে আলোচনা করেই ট্যারিফ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নতুন মাশুল কার্যকর হলে বন্দরে পণ্যের স্টাফিং চার্জ ২.৭৩ ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়াবে ৬.৪১ ডলার, আর জাহাজের পাইলটেজ চার্জ ৩৫৭.৫০ ডলার থেকে বেড়ে হবে ৮০০ ডলার। অন্যান্য সেবার খরচও প্রায় একই হারে বাড়বে, যা ব্যবহারকারীদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।