Print

Rupantor Protidin

চট্টগ্রামে কিশোরদের নির্মম নির্যাতন: তিন দিনে জ্ঞান ফেরেনি মানিক-রাহাতের

প্রকাশিত হয়েছে: আগস্ট ২৫, ২০২৫ , ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: আগস্ট ২৫, ২০২৫, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ

Sheikh Kiron

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় গুরুতর আহত দুই কিশোর মো. মানিক (১৪) ও ফারহান তানভীর রাহাত (১৪) এখনো চেতনা ফিরে পায়নি। তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তারা অচেতন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। শরীরজুড়ে ক্ষত ও ভাঙা হাড় নিয়ে তাদের অবস্থা সঙ্কটজনক।

রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, চমেক হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি বিভাগের ১১ নম্বর শয্যায় শুয়ে আছে মাদ্রাসাছাত্র মানিক। নড়াচড়া নেই, শুধু স্যালাইনের উপর ভর করে টিকে আছে। তার মা রোজিনা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলের অপরাধটা কী ছিল? কেন এভাবে ওকে শেষ করে দিল?” বড় বোন আঁখি আক্তারের চোখে-মুখেও দুশ্চিন্তার ছাপ স্পষ্ট।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানিকের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং শরীরজুড়ে অসংখ্য আঘাত রয়েছে। অস্ত্রোপচার লাগতে পারে। তবে এখনও তাকে শঙ্কামুক্ত বলা যাচ্ছে না।

একই পরিস্থিতি রাহাতেরও। চমেক হাসপাতালের ২৬ নম্বর অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর বাঁ হাত ভাঙা, শরীরে জমাট বাঁধা রক্তের দাগ এবং মারাত্মক জখম রয়েছে। মায়ের চোখে অশ্রু, ছেলের মুখ থেকে ‘মা’ ডাক শোনার অপেক্ষায় দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রাহাতের হাত প্লাস্টারে বাঁধা হয়েছে, তবে তার শরীরের ক্ষত এতই গুরুতর যে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।

উল্লেখ্য, শুক্রবার ভোরে ফটিকছড়ির কাঞ্চননগর ইউনিয়নের চেইঙ্গার ব্রিজে চোর সন্দেহে তিন কিশোরকে রেলিংয়ে বেঁধে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় রিহান উদ্দিন মাহিন (১৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় মানিক ও রাহাতকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সর্বশেষ পাইন্দং ইউনিয়নের বেড়াজালী এলাকা থেকে ফারাজ উদ্দিনকে আটক করা হয়। মামলার তদন্তে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন ওসি নূর আহমেদ।