রাজশাহীতে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শহরের টি-বাঁধ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে চরাঞ্চলের কিছু ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) গেজ রিডার এনামুল হক জানান, বুধবার সকাল ৯টায় পদ্মার পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১৭.৪৯ মিটার, যা সকাল ৬টার তুলনায় সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপৎসীমা ১৮.০৫ মিটার হওয়ায় বর্তমানে তা এখনও ৫৬ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে। তিনি জানান, জুলাই থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
পানি বৃদ্ধির ফলে নগরীর পঞ্চবটি, তালাইমারি, কাজলা, পাঠানপাড়া, বুলনপুর ও শ্রীরামপুরসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। অনেকেই গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে শহররক্ষা বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
এছাড়া, শহরের দক্ষিণে ভারত সীমান্তসংলগ্ন চরখিদিরপুর, খানপুর ও মিডলচরের বেশিরভাগ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। এসব এলাকার বাসিন্দারা নিরাপদ স্থানে বা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন।
রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান জানান, ফারাক্কার সব কপাট খোলা এবং দুই দেশে অতিবৃষ্টির কারণে পদ্মায় পানির চাপ বেড়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার পানির উচ্চতা ও পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টি-বাঁধ এলাকায় দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সব কর্মী সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।