স্বপ্ন ছিল কম্পিউটার প্রকৌশলী হওয়ার। সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে সেই স্বপ্নের প্রথম ধাপে পা রেখেছিলেন স্নেহা চক্রবর্তী। কিন্তু নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দিনেই ভর্তির টাকা জমা দিয়ে ফেরার পথে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন তিনি।
বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ-সিলেট মহাসড়কে বাস ও সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে স্নেহার মৃত্যুতে শোকাচ্ছন্ন পুরো এলাকা, শোকস্তব্ধ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
স্নেহা ছিলেন সুনামগঞ্জ সরকারি সতীশ চন্দ্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি কলেজের কৃতী ছাত্রী। এসএসসি ও এইচএসসি দুটোতেই জিপিএ-৫ অর্জন করেছিলেন। চলতি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন তিনি।
বাবা বিপুল চক্রবর্তী, যিনি শান্তিগঞ্জ উপজেলার আস্তমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সকালে মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ভর্তি কার্যক্রম সারেন। কাজ শেষে বাসায় ফেরার সময় স্নেহাকে একা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে দেন। পথে লাশ হয়ে ফিরলেন মেধাবী স্নেহা।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান তার মা জ্যোতি চক্রবর্তী ও ছোট ভাই সূর্য। মেয়ের নিথর দেহ দেখে বারবার জ্ঞান হারান মা। হাসপাতালে হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ও ভাই।
এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরও দুজন—শান্তিগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা জাহান খুশি ও শফিকুল ইসলাম (৫০)। আহত হয়েছেন একজন শিক্ষার্থী এবং অটোরিকশার চালক।
স্নেহার মামাতো ভাই মলয় চক্রবর্তী জানান, পরিবার চেয়েছিল স্নেহা ডাক্তার হোক, কিন্তু মেডিকেলে চান্স না পাওয়ায় কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন। সুনামগঞ্জে থাকার সুবিধা বিবেচনা করে তাকে সুবিপ্রবিতে ভর্তি করানো হয়। “ছাত্রী হলো ঠিকই, কিন্তু পরিবারের সেই স্বপ্ন শেষতক পূরণ হলো না,” বললেন কান্নাভেজা কণ্ঠে।
সুবিপ্রবির প্রক্টর ড. শেখ আব্দুল লতিফ বলেন, “আজই স্নেহার প্রথম দিন ছিল। এমন মৃত্যু খুবই দুঃখজনক। আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই।”
এদিকে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করছেন, সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কে ফিটনেসবিহীন যানবাহন ও বেপরোয়া চালকদের কারণেই এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার তোফায়েল আহমেদ জানান, হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু করেছে। দায়ীদের খুঁজে বের করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।