সূর্য তখন পশ্চিমপটে বাঁক দিয়েছে, তখনই মাগুরার শালিখা উপজেলার বরইচারা স্কুল মাঠে মজে উঠেছে শতবর্ষের লক্ষী পূজার মেলা। এলাকার সকল শ্রেণীর মানুষ মেতে উঠেছে এ উৎসবে উৎসবে। মাগুরার হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আসবা বরইচারা, ধাওয়াসীমা, নরপতি, কুল্লিয়া কুচিয়ামোড়া উল্লেখযোগ্য। এ সব গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠান জমজমাকতার শেষের রেশ কাটতে না কাটতেই মজেছে লক্ষীপূজার মেলা। দীর্ঘ সপ্তাহ ব্যাপী দুর্গাপূজার চিড়া নাড়ুর সাথে আরতি পূজা গান-বাজনায় কাটলেও বিজয়া দশমীর সাতদিন পর মাঠে এক বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
একসময় এটা হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও দিন দিন বাঙালির উৎসবে পরিণত হচ্ছে আসবা বরইচারার এ ঐতিহ্যবাহী লক্ষী পূজার মেলাটি। দুপুর থেকে ই আশেপাশে সকল শ্রেণীর মানুষ বরইচারা স্কুল মাঠে জমা হতে থাকে। আর ওই দিনে দূর দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থী মেলায় আগমন ঘটে। সরকারি ছুটির পর ঐ দিন বাড়তি ছুটি নিয়ে ছুটে আসে ঐ মেলায়। সবাই বন্ধুবান্ধবের সাথে মিলিত হয়ে একাকার হয়ে যায় মেলার বাদাম চানাচুর ফুসকা পাপরের মচমচ ও উৎসবের আমেজে। কত দিনের কত কথা হৃদয়ে জমাট বাঁধা ছোটো ছোটো সুখ দুঃখের আলাপচারিতায় যেন বন্ধুবান্ধবদের কাছে ব্যক্ত করার পয়েন্ট এ মেলা।
এছাড়া এলাকায় নতুন নতুন বিবাহিত মেয়েরা ঐ দিন বাপের বাড়ি এসে নতুন জামা কাপড় পরে আসে বহুরূপী সাজে । তাছাড়া কার বর কতটা দাম দরের যুদ্ধে জয় লাভ করেছেন তা ব্যাক্ত করার যোগ্যস্থান পরিণত হয় এ মেলা।
এলাকার শতবর্ষের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী মেলা সম্পর্কে বলতে গিয়ে বরইচারা গ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চঞ্চল জোয়ার্দার বলেছেন, বরইচারা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত এ লক্ষীপূজার মেলাটি শুধু একটি সম্প্রদায়ের মেলা নয় এটা শত বছর ধরে জীবন পথে হারিয়ে যাওয়া বন্ধু-বান্ধবদের মিলন ভূমির যোগ্য পটভূমিও বটে” এ মেলার বিশিষ্ট মৎস্য ব্যবসায়ী বাবু শিপুল রায় বলেন, এলাকার এ ঐতিহ্যবাহী মেলাটির এখন আর আগের মত বৈচিত্র্য নেই, ব্যবসায়ীদের দেখি আর আগের মত লাভ করার তেমন সুযোগ নেই, কেননা সবকিছুই আকাশ ছোঁয়া দাম, আগে এলাকায় সকল জামায়জন পূজায় এসে যেমন হাঁসি খুশি নিয়ে ব্যাগভরে বাজার করতো এখন তেমনটা দেখা যায় যেন সকল জামায় গুলো যেন ঐতিহ্য ধরে রাখতে দায়সারাভাবে সেরে চলে। মেলায় একসময় যে নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা হতো তা এখন শুধু দায়সারা ভাবে কোনরকম টিকে আছে। তাছাড়া দেখা যায় না গোপলা (গোপাল) জালের শীব সেজে নাচা দেখা যায় না সেই চৈতন্যর নৌকায় চড়ে কেবল শংখ বিহনে অনুরাগে চলেন গৌরী নাইওরেরও দেশে সে শাড়ী গানের টান। আমাদের এ হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারলে এলাকার ছেলে মেয়েরা মোবাইলে আসক্ত ও বিপথগামী হওয়ার থেকে রক্ষা করা যেত।
মন্তব্য করুন
খবরের বিষয়বস্তুর সঙ্গে মিল আছে এবং আপত্তিজনক নয়- এমন মন্তব্যই প্রদর্শিত হবে। মন্তব্যগুলো পাঠকের নিজস্ব মতামত, রূপান্তর প্রতিদিন এর দায়ভার নেবে না।